Colourful graphic with text Joint civil society statement on abortion

 

ধন্যবাদ সভাপতি মহোদয়,

আমরা ...-এর পক্ষে এই বিবৃতি দিচ্ছি।
 

ভিয়েনা ঘোষণায় রাষ্ট্রগুলো সর্বজনীন মানবাধিকারের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ব জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য নিরাপদ গর্ভপাতের সুযোগ এখন বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। গর্ভপাতের বিধিনিষেধ কেবল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহনের ক্ষেত্রে বাধা নয়; এগুলো শারীরিক স্বায়ত্তশাসন, সমতা ও মানবিক মর্যাদা অর্জনেও অন্তরায়।  

গর্ভপাতের সেবা নিতে আগ্রহী ব্যক্তিরা এখনো অপরাধীকরণ, তৃতীয় পক্ষের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা, বাধ্যতামূলক অপেক্ষার সময়, স্বেচ্ছাচারী গর্ভকালীন সীমা, অত্যধিক ব্যয় ও বৈষম্যমূলক আচরণের সম্মুখীন হন। এসব বাধা কাঠামোগত বৈষম্যের শিকার ব্যক্তিদের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে, উগ্র ডানপন্থী ও প্রতিক্রিয়াশীল সরকার, অরাষ্ট্রীয় পক্ষ এবং বিভিন্ন সংস্থার পরিচালিত জেন্ডার সমতা এবং যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য ও অধিকারের বিরুদ্ধে চলমান ও ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এসব প্রতিবন্ধকতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।   

আজ আন্তর্জাতিক নিরাপদ গর্ভপাত দিবস উপলক্ষে আমরা জেন্ডার, প্রজনন ও যৌনতার সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের অধিকার লঙ্ঘনের অভিন্ন বিষয়গুলো তুলে ধরছি। গর্ভপাতের ওপর বিধিনিষেধ ও যৌনকর্মকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, জনজীবন থেকে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের মুছে ফেলার প্রচেষ্টা, মাতৃত্ব ও পরিবারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, সামরিকীকরণ, গণহত্যা এবং জাতিগত নির্মূল এসবের বিরুদ্ধে আমরা সংহতি প্রকাশ করছি। জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ পক্ষসহ অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভিন্ন পক্ষের এই ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টাকে আমরা প্রত্যাখ্যান করি, যারা নির্ধারণ করতে চায় কোন ব্যক্তির শরীর, পরিচয় ও প্রজনন সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত বৈধ এবং মানবাধিকার পাওয়ার যোগ্য ।   

রাষ্ট্রগুলোরও দায়িত্ব হলো এসব প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা এবং মানবাধিকারের সর্বজনীনতার নীতিকে সমুন্নত রাখা, বিশেষত জেন্ডার, যৌনতা ও প্রজননের ক্ষেত্রে। এর মাধ্যমে আমরা সবাই যেন শারিরীক স্বায়ত্তশাসনের অধিকার প্রয়োগ করতে পারি এবং আমাদের শরীর, জেন্ডার, যৌনতা ও জীবন সম্পর্কে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে পারি। 

ধন্যবাদ ।